Skip to main content

এনজিওপ্লাস্ট করতে কত সময় লাগে ? এনজিওপ্লাস্টি সার্জারির পদ্ধতি

Angioplast
Angioplast



বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃদপিন্ডের সংকীর্ণ লুমেন যুক্ত বা রুদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনী পুনরায় প্রসস্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতি হলো এনজিওপ্লাস্টি।

1977 খ্রিস্টাব্দে জার্মানি কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর অ্যানড্রেস গ্রয়েনজিগ সর্বপ্রথম এনজিওপ্লাস্টি পদ্ধতিটি প্রয়োগ করেন। এনজিওপ্লাস্টি 4 ধরনের হয়ে থাকে।


১. বেলুন এনজিওপ্লাস্টি : ‌ 

এক্ষেত্রে একটি বেলুন ক্যাথেটার ধমনীতে প্রবেশ করিয়ে কোলেস্টরেলের পিন্ডগুলোকে ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং রক্তনালীর খোলা রাখতে সেইখানে প্রায়ই একটি স্টেন্ট স্থাপন করা হয়।

বেলুন Angioplasty


২. লেজার এনজিওপ্লাস্টি:রথথলদ

এ ধরনের এনজিওপ্লাস্টিতে ক্যাথেটারের আগায় বেলুনের পরিবর্তে একটি লেজার লাগানো হয়। করোনারি ধমনীর প্লাকযুক্ত অংশে পৌঁছে লেজার রস্মি স্তরে স্তরে প্লাক ধ্বংস করে এবং গ্যাসীয় কনা বাষ্পীভূত করে দেয়। শুধু লেজার নয়, এ প্রক্রিয়ায় বেলুন এনজিওপ্লাস্টির পাশাপাশি প্রয়োগ করা যায়।

 

Laser angioplasty




৩. করোনারি অ্যাথেরেকটমি :

 এটি এনজিওপ্লাস্টির মত একটি প্রযুক্তি তবে এক্ষেত্রে ধমনী প্রাচীরে প্লাককে বেলুনের সাহায্যে চেপে লুমেন প্রশস্ত করার পরিবর্তে বিভিন্ন যন্ত্র যেমন: ক্ষুদ্র ঘূর্ণি, বিল, বেলুন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

করোনারি অ্যাথেরেকটমি



৪. করণারি স্টেনটিং :

স্টেন্ট হচ্ছে ক্ষুদ্র কিন্তু প্রসারণ যোগ্য ধাতব যন্ত্র। এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন হলে ক্যাথেটার এর সাহায্যে সংকীর্ণ ধমনী লুুমেনে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয় যেন আবারো সংকীর্ণ না হতে পারে।

করণারি স্টেনটিং





এনজিওপ্লাস্টি প্রক্রিয়া

এনজিওগ্রাম করে নিশ্চিত হওয়ার পর এ ধরনের সার্জারি করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রমে উর্ধ্ববাহু বা পা এর একটি অংশ কেটে ধমনীর ভিতর দিয়ে পাতলা নল বা ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে কৌশলে রূদ্ধ  বা আংশিক বুজে যাওয়া  ধমনীতে পৌঁছানো হয়। ক্যাথেটার একটি সরু তার, তারের অগ্রভাগে একটি চুপসানো বেলুন ও বেলুন চারদিকে একটি ধাতব তারের জালের চোঙ বসানো থাকে। এই জালিকাটিকে স্টেন্ট বলে। স্টেন্টটি সাধারণত বিশেষ প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করা হয়ে থাকে। স্টেন্টসহ বেলুন কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছালে বেলুনটি বাইরে থেকে ফুলানো হয়। বেলুনের সাথে সাথে স্টেন্টটিও স্ফীত হয় এবং প্রতিবন্ধক স্থানের চাপ দিতে থাকে। চাপের ফলে ধমনীর গহবরের প্রতিবন্ধক স্থানের চর্বিযুক্ত পদার্থ নিষ্পেষিত হয় এবং সংকীর্ণ ধমনী প্রশস্ত হয়। ধমনীর ভিতর যখন রক্ত স্বাভাবিক ভাবে প্রবাহিত হতে শুরু করে তারপর বেলুনটি কে সংকুচিত করে বাইরে বের করে আনা হয় এবং স্টেন্টটি ধমনীর অন্তঃপ্রাচীরে থেকে যায়। এর ফলে পরবর্তীতে ধমনীর সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে 30 মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা সময় লাগে।







Comments

Popular posts from this blog

ত্বকের যত্নে এলোভেরা (ঘৃতকুমারী)

 ত্বকের যত্নে এলোভেরা এক বিস্ময়কর উপাদান। এলোভেরা আমাদের ত্বককে হাইড্রেটেড এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। এতে আমাদের ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল লাগে। এলোভেরা এর বৈজ্ঞানিক নাম aloe vera. আমাদের ত্বকে  নিয়মিত এলোভেরা ব্যবহার করলে আমাদের ত্বক ভালো থাকে। ত্বকে এলোভেরা ব্যবহার করলে ত্বকের ডেথ সেল গুলো পুষ্টি পায় এবং আমাদের ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায়। আমাদের ত্বক রোদে পুড়ে গেলে তখন এলোভেরা ব্যবহার করলে অনেক বেশি উপকার পাওয়া যায়। আর অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক উপাদান হওয়াতে এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে না। তাছাড়া ত্বকের বিভিন্ন ক্ষত দূর করতে আমরা এলোভেরা ব্যবহার করতে পারি। এটি অনেক বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। চিকেন পক্স এর দাগ দূর করার জন্য আমরা আমাদের থেকে এলোভেরা ব্যবহার করতে পারি। এতে কিছুদিনের মধ্যেই দাগ দূর হয়ে যাবে।  আমাদের ত্বকে এলোভেরা ব্যবহার করার জন্য আমরা বাজার থেকে যেকোনো ধরনের অ্যালোভেরা জেল কিনে ব্যবহার করতে পারি। তাছাড়া আমরা চাইলে বাসায় নিজেরাও অ্যালোভেরা থেকে এলোভেরা জেল খুব সহজেই প্রস্তুত করে নিতে পারি।

চিকেন পক্স হলে কি কি করণীয়

 চিকেন পক্স varicella zoster virus দ্বারা আক্রান্ত এক প্রকার রোগ। চিকিৎসার ভাষায় একে জলবসন্ত রোগ বলা হয়। চিকেন পক্স এর লক্ষণ: ১. প্রাথমিকভাবে গায়ে জ্বর আসে। ২. শরীরে ফোসকার মত দাগ উঠে। ৩. শরীরের অস্বস্তিভাব। ৪. শরীর দুর্বল লাগে। ৫. ব্যক্তি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। চিকেন পক্স কি কি করবেন না : ১. বাইরে রোদে যাওয়া যাবে না। ২. যেহেতু এই রোগ অনেক ছোঁয়াচে তাই জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। ৩. নখ দিয়ে ক্ষত স্থান চুলকানো যাবে না। চিকেন পক্স হলে করণীয়: ১. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। ২.  আলো-বাতাস পূর্ণ ঘরে থাকা। ৩. যথাসম্ভব ঠান্ডা স্থানে থাকা। ৪. ভিটামিন যুক্ত খাবার খাওয়া যাতে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ৫. চুলকানির নিরাময় এর জন্য ওষুধ সেবন করা।

হার্ট ফেইলিউর এর চিকিৎসা

  হৃদপিণ্ড যখন দেহের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্তের যোগান দিতে পারে না তখন এ অবস্থাই হলো হার্ট ফেইলিউর। অনেক সময় হৃদপিণ্ড রক্তে পরিপূর্ণ হতে না পারায় আবার অনেক সময় হৃদ প্রাচীরের যথেষ্ট শক্তি না থাকায় এমনটি হতে পারে। হার্ট ফেইলিউর এর কারণ : করোনারি ধমনী অন্তঃস্থ গাত্রে কোলেস্টেরলের জমে ধমনীর গহবর সংকীর্ণ করে দিলে হৃদপ্রাচীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে হার্ট ফেইলিউর ঘটতে পারে।  উচ্চ রক্তচাপ বেশি দিন স্থায়ী হলে ধমনীর অন্তঃপ্রাচীরে কোলেস্টেরল জমার সম্ভাবনা থাকে। ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস হলে দেহের পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন বা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না এ কারণে ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে হার্ট ফেইলিউর ঘটে। হৃৎপিণ্ডে জন্মগত বা সংক্রমণ জনিত সমস্যার কারণেও হার্ট ফেইলিউর ঘটতে পারে। হার্ট ফেইলিউর এর লক্ষণ: ১.  সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় এমনকি ঘুমন্ত অবস্থায় মধ্যে শ্বাস কষ্ট ভোগে। ঘুমের সময় মাথার নিচে বালিশ না দিলে শ্বাস কষ্ট আরো বেড়ে যায়। ২. সাদা বা গোলাপি রঙের রক্তমাখানো  অবস্থায...

কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ এবং করণীয়

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃক্ষের কাজকর্মেও পরিবর্তন ঘটে,সফলতা ধীরে ধীরে কমে আসে। বলা হয়ে থাকে 70 বছর বয়স্ক মানুষের বৃক্কের মাত্র 50% কাজে সক্ষম থাকে। রোগ ব্যাধির কারণ এ কিডনির ক্ষমতা কমে যাওয়াকে কিডনি বিকল হওয়া বলে। মাত্র 48 ঘন্টার মধ্যে যখন কিডনি দেহের বজ্র পদার্থ অপসারণে,পানিসাম্য ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ অক্ষম হয়ে পড়ে তখন এই অবস্থাকে বৃক্ষের তাৎক্ষণিক বিকেল বলে। কিডনির তাৎক্ষণিক বিকলের কারণ: ১. দেহে অধিক পানি শূন্যতা ২. বড় কোনো ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে বৃক্ষের রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ৩. অতিরিক্ত মাত্রায় ডায়াবেটিস বমি ৪. টিস্যুতে কম রক্ত সরবরাহ, হার্ড অ্যাটাক, মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হওয়া, ভুল রক্ত দেয়া ৫. বৃক্কে পাথর, মূত্রনালীতে টিউমার বা জন্মগত ত্রুটি থাকলে, পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে ৬. অতিরিক্ত মাত্রায় এন্টিবায়োটিক (যেমন: জেন্টামাইসিন ,স্ট্রেপ্টোমাইসিন ) ব্যথানাশক ওষুধ ( অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রফেন ), উচ্চরক্তচাপের ঔষধ (যেমন: এসিই ইনহিবিটর) সেবনে ৭. বিষাক্ত পদার্থ যেমন: কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, আর্সেনিক, লেড, মার্কারি ইত্যাদি গ্রহণে ৮. বৃক্ষের টিস্...

সাইনুসাইটিস রোগের লক্ষণ ও কারণ

 মাথার খুলিতে মুখমণ্ডলীয় অংশে নাসাগহবরের দুপশে অবস্থিত  বায়ুপূর্ণ বিশেষ গহ্বরকে সাইনাস বলে। সাধারণ অবস্থায় সাইনাসগুলো বায়ুপূর্ণ মিউকাস পর্দায় আবৃত এবং ক্ষুদ্র নলির মাধ্যমে নাসা গহবর তথা শ্বাসনালীর সাথে যুক্ত থাকে। কোন কারন এই সাইনাসের বাতাসের বদলে তরল পদার্থের পূর্ণ থাকলে এই তরল পদার্থ যদি ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক এ সংক্রামিত হয় তখন সাইনাসের প্রদাহ সৃষ্টি হয়। আরেক একেই সাইনুসাইটিস বলে। সাইনোসাইটিস দুই প্রকার। ১. একিউট সাইনুসাইটিস: এর স্থায়িত্ব 4 থেকে 8 সপ্তাহ ২. ক্রনিক সাইনুসাইটিস: এর স্থায়িত্ব দুই মাসের বেশি সাইনুসাইটিস রোগের কারণ: ১. সাইনসিটি বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ( human respiratory syncytial virus, parainflueza virus), ব্যাকটেরিয়া ( streptococcus, pneumoniae), এবং কিছু ক্ষেত্রে ছত্রাকের আক্রমণে সাইনুসাইটিস হতে পারে ২. ঠান্ডা জনিত কারণে, এলার্জি জনিত কারণে ৩. দাঁতের ইনফেকশন থেকে দাঁত তুলতে গিয়েও সাইনাসের সংক্রমণ হতে পারে ৪. যাদের হাঁপানি সমস্যায় ভোগে তাদের দীর্ঘস্থায়ী সাইনুসাইটিস দেখা যায় ৫. নাকের হাড় বাঁকা থাকলে অথবা মুখগহ্বরের টনসিল বড় হয়ে এ রোগ হতে পারে...